দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
দক্ষিণের খবর ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম
আপডেট: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর সড়কের পাশে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের কথা বলে সরকারি গাছ বিক্রি ও কাটার অভিযোগ উঠেছে ডাসার উপজেলা বিএনপির নেতা সালাম খানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাঁকে কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখেন।বুধবার সকালে কালকিনি উপজেলার সিডিখান ইউনিয়নের মোক্তারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।সালাম খান কালকিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। বর্তমানে তিনি ডাসার উপজেলা বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচিত।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোক্তারহাট এলাকায় কালকিনি–সাহেবরামপুর সড়কের পাশে থাকা একটি সরকারি গাছ কাটতে শুরু করেন স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ী মোকলেস মোল্লা। গাছ কাটার বিষয়টি নজরে এলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তাঁকে বাধা দেন।এ সময় মোকলেস মোল্লা স্থানীয়দের জানান, তিনি বিএনপি নেতা সালাম খানের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় গাছটি কিনেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সালাম খান ঘটনাস্থলে আসেন। পরে সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ তুলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে ঘিরে ধরে কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখেন।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি জায়গার গাছ ব্যক্তি পর্যায়ে বিক্রি করার এখতিয়ার কারও নেই। অথচ অনুমোদনের কাগজপত্র প্রকাশ্যে না দেখিয়েই গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অবরুদ্ধ অবস্থায় সালাম খান দাবি করেন, যাত্রী ছাউনি নির্মাণের জন্য সরকারি অনুমতি নিয়েই গাছটি বিক্রি করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের সামনে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সেই অনুমোদনের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।পরে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি অনুমোদনের প্রমাণপত্র দেখানোর আশ্বাস দিলে স্থানীয়রা তাঁকে ছেড়ে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আকবর শিকদার, ফরিদ শিকদার ও জুয়েল চৌকিদার বলেন, সরকারি গাছ কাটার বিষয়টি জানতে পেরে তাঁরা বাধা দেন। তাঁদের ভাষ্য, গাছ বিক্রির বৈধ অনুমোদন রয়েছে—এমন কোনো কাগজপত্র তখন ঘটনাস্থলে দেখানো হয়নি। পরে কাগজ দেখানোর শর্তে সালাম খানকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
গাছের ক্রেতা মোকলেস মোল্লা বলেন, “সালাম খানের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় গাছটি কিনে আমি কাটা শুরু করেছিলাম। তিনি বলেছেন, গাছটি বিক্রির অনুমতি রয়েছে।”তবে সরকারি গাছ বিক্রির ক্ষেত্রে কী ধরনের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল, সেটি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি যাচাই করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে সালাম খান বলেন, “এলাকায় একটি যাত্রী ছাউনি তৈরি করা হবে। এ কারণে গাছটি বিক্রি করা হয়েছে। সরকারি অনুমতি নিয়েই গাছ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”তবে তাঁর দাবির সমর্থনে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অনুমোদনপত্র প্রদর্শন করা হয়নি।কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ উল আরেফীন বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি অনুমোদনের বিষয়টি যাচাই করা হবে।
তিনি বলেন, “আগামীকালের মধ্যে গাছ কাটার বৈধ অনুমোদনের কাগজপত্র দেখাতে না পারলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মামলা করা হবে।”স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ্যে আনা হবে এবং সরকারি সম্পদ নিয়ে অনিয়ম হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team